প্রচুর মজুদ সত্ত্বেও জ্বালানি সংকট ইরানে

শীত মৌসুমে জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে ইরান। ফলে দেশটির কিছু শহরে কারখানা ও সরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে বা কম কর্মঘণ্টায় পরিচালিত হচ্ছে।

শীত মৌসুমে জ্বালানি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে ইরান। ফলে দেশটির কিছু শহরে কারখানা ও সরকারি অফিস বন্ধ রয়েছে বা কম কর্মঘণ্টায় পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ ইরান মূলত নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব দেখা দিয়েছে। অপর্যাপ্ত অবকাঠামোর সঙ্গে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার কারণে বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কলকারখানা ও বাড়িঘরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শীতকালে জ্বালানি সংকট অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি জনগণকে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জ্বালানিমন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদি জনগণকে জ্বালানি বাবদ খরচ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরো বেশি পরিমাণে জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ জাফর ঘায়েমপানাহ বলেছেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাসের অভাবে কিছু শিল্পাঞ্চলের কারখানা ও ওয়ার্কশপের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৯৪ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৮৪ কোটি ঘনমিটার।’

ইরানের সংবাদমাধ্যম তেজারত নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ইরানের বেশির ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। তবে পিক সময়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটের ঘাটতি রয়েছে।

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ইরানের ৯৪ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়ু ও সৌরশক্তি ব্যবহারের হিস্যা বিশ্বব্যাপী ১৩ শতাংশ, যেখানে ইরানে মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ।

ইরানে প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভাব ও পুরনো অবকাঠামো নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রগতির প্রচেষ্টাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এতে জ্বালানির অপচয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে।

ইরানের জ্বালানি অদক্ষতা খরচ বাড়িয়েছে এবং বিদ্যুৎ গ্রিডকে নির্ভরযোগ্য করতে পারছে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে প্রতি বছর অর্থনীতিতে ৫০০-৮০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়ে থাকে।

সৌর ও বায়ু প্রকল্পের মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইরান ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির সক্ষমতা প্রায় ৩০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। আর্থিক সমস্যা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পক্ষে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন কঠিন হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের দিক থেকে এগিয়ে রাশিয়া। দেশটিতে প্রায় ৪৭ লাখ কোটি ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান, যার মজুদের পরিমাণ ৩৪ লাখ কোটি ঘনমিটার।

আরও